থাইল্যান্ডে গুহায় আটকে পড়া খুদে ফুটবলারদের ‍উদ্ধারে অভিযান শুরু করা হয়েছে।

গুহায় আটকে পড়ার ১৫ দিন পর স্থানীয় সময় রোববার সকাল ১০টায় তাদের উদ্ধারে উদ্ধারকারীরা গুহায় প্রবেশ করেন বলে জানান উদ্ধার অভিযানের প্রধান নারংসাক ওসোত্তানাকর্ন।

অভিযান শুরুর আগে অভিযানে জরুরি নয় এমন সব কর্মীকে গুহার প্রবেশমুখের সামনে থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। শুধু মাত্র ডুবুরি, চিকিৎসক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এখন গুহার প্রবেশমুখে অবস্থান করছেন।

নারংসাক ওসোত্তানাকর্ন জানান, উদ্ধার হওয়া প্রথম কিশোরের পৌঁছতে স্থানীয় সময় রাত ৯টা বাজতে পারে। পুরো উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত হতে কয়েক দিন লাগবে।

তিনি বলেন, ‘কিশোরগুলো মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত আছে। আজকেই ডি-ডে।’

উদ্ধার অভিযান সম্পর্কে খুদে ফুটবলার ও তাদের পরিবারকে জানানো হয়েছে। পথ সংর্কীর্ণ, পানিপূর্ণ ও বিপদসংকুল হওয়ায় উদ্ধারে হতাহতের শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গত ২৩ জুন দুপুরে ওই ফুটবল দলটি ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ ওই গুহায় প্রবেশ করে। তবে সন্ধ্যায়ও ফিরে না আসলে তাদের খোঁজে অভিযান শুরু হয়।

নিখোঁজ ১৩ জনের ওই খুদে ফুটবল দলে ১২ জন খেলোয়াড় ও একজন কোচ রয়েছে। ওই ফুটবলারদের বয়স ১১ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে।

সোমবার রাতে তাদেরকে খুঁজে পায় ব্রিটেনের দুইজনের ডুবুরি দল। তাদের জীবিত সন্ধান পাওয়ার খবরে থাইল্যান্ড জুড়ে বইছে আনন্দের বন্যা। তবে তাদেরকে উদ্ধার করতে তিন/চার সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। তা ছাড়া, গুহার ভেতরে পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

থাম লুয়াং গুহা উত্তর থাইল্যান্ডের একটি দুর্গম স্থান হিসেবে পরিচিত। বর্ষাকালে গুহার ভেতরে বন্যা হয়, যা সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

উদ্ধারকারীরা জানান, ওই কিশোরদেরকে কোথাও ডুবসাঁতার দিতে হবে, কোথাও হেঁটে পার হতে হবে। অভিযান বিপজ্জনক। কারণ গুহার নিচে উদ্ধারে পথে অনেক জায়গা পুরোপুরি কর্দমাক্ত, কোথাও ১৬ ফুট পর্যন্ত পানি, কোথাও পুরোটাই পানিতে পূর্ণ, যেখানে কিছুই দেখা যায় না। এ ছাড়াও অনেক স্থান খুবই বিপজ্জনক। এর আগে খুদে ফুটবলারদের উদ্ধারে গুহার পানি কৃত্রিমভাবে সরানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন উদ্ধারকারীরা।

সামান গুনান (৩৮) নামের এক ডুবুরি ওই খুদে ফুটবলারদের উদ্ধার অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হয়েছেন। থাইল্যান্ডের নৌবাহিনী থেকে অবসর নিয়েছিলেন এই ডুবুরি। খুদে ফুটবলারদের গুহায় আটকে পড়ার খবর শুনে তিনি উদ্ধারকাজে যোগ দিতে আসেন।

সামান গুনান গুহার ভেতরে আটকে থাকাদের জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহের কাজ করছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে ফেরার পথে নিজের সিলিন্ডারের অক্সিজেন ফুরিয়ে যাওয়ায় দমবন্ধ হয়ে যায়। পরে তার সহকারী ডুবুরি তাকে উদ্ধার নিয়ে আসে। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। থাই রাজা তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ বহন করবেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *