পাসপোর্টগুলোতে সাইপ্রাসের ভিসা স্টিকার লাগানো। দেশটিতে যেতে সেখানকার আমন্ত্রণপত্র, ব্যাংকের হিসাব বিবরণী, শিক্ষা সনদও রয়েছে। তবে এর সবই জাল। এসব জাল কাগজ দিয়েই টাকার বিনিময়ে নেওয়া হচ্ছে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বহির্গমন ছাড়পত্র। ভয়াবহ একটি জালিয়াত চক্র ঢাকার উত্তরায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসে তৈরি করছে এসব জাল কাগজপত্র। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের জাল ভিসাও তৈরি করে তারা। এসব দিয়ে বিদেশ গমনেচ্ছু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় মোটা অঙ্কের টাকা।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতারের পর বেরিয়ে আসে প্রতারণার ভয়াবহ এই চিত্র। গত সোমবার রাতে ডিবি-উত্তর বিভাগ এ অভিযান চালায়।

প্রতারক চক্রের গ্রেফতার চারজন হলো- জিয়াউল হক জুয়েল, জাকারিয়া মাহামুদ, মাহবুবুর রহমান ও মামুন হোসেন। তাদের কাছ থেকে ১৪টি জাল সেনজেন ভিসাযুক্ত বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ব্যাংকের জাল হিসাব বিবরণী এবং ভিসা প্রস্তুতের বিপুল পরিমাণ ম্যাট স্টিকার পেপার, সাইপ্রাসে পাঠানোর জন্য জাল আমন্ত্রণপত্র, ব্যাংক গ্যারান্টি, জাল সনদ তৈরি কাজে ব্যবহূত কম্পিউটার, স্ক্যানার, প্রিন্টারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেফতার চারজনকে নিয়ে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেন ডিবির কর্মকর্তারা। সেখানে ডিবির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, এই চক্রটি সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে লোক পাঠানোর কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়। তারা জাল ভিসাসহ বিভিন্ন জাল সনদ তৈরি করে তা বিদেশে গমনেচ্ছু লোকজনকে দেয়। ভিসা হয়ে গেছে জানিয়ে একটি পাসপোর্টের বিপরীতে তিন থেকে পাঁচ হাজার ডলার সংযুক্ত করা হয়েছে- এমন কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়।

ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, চক্রটি বিদেশ যাত্রীদের ফ্লাইট করার কথা বলে বিমানবন্দরেও নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তাদের কাছে থাকা ডলার হাতিয়ে নিয়ে জানায়, ‘অনিবার্য কারণে’ ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এরপর কেটে পড়ে। বিদেশ যাওয়ার পর খরচ নেওয়া হয় বলে সাধারণ লোকজনকে তারা আকৃষ্ট করে।

ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া ডিবি-উত্তর বিভাগের ডিসি মশিউর রহমান সমকালকে বলেন, চক্রটি প্রথমে একটি আসল ভিসা স্টিকারযুক্ত পাসপোর্ট নেয়। পরে সেটি ফটোশপের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির ছবি ও নাম-ঠিকানা যুক্ত করে। এতটা নিখুঁতভাবে করা হয় যে, এটি আসল, না নকল তা বোঝার উপায় নেই। গত ৫-৬ বছর ধরে এই অপকর্ম তারা বাসায় বসেই করে আসছিল।

ডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, সেনজেনভুক্ত দেশগুলোর নকল আমন্ত্রণপত্র তৈরি করে জালিয়াত গ্রুপটি সাধারণত ভিসামুক্ত দেশে লোক পাঠায়। এরপর সেখান থেকে ইউরোপে যাওয়ার সময় এসব নকল কাগজে ধরা পড়ে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

ডিবি কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতার চারজনের কাছ থেকে পাওয়া বিএমইটির স্মার্টকার্ডগুলো আসল। কিন্তু একটি আসল স্মার্টকার্ড পেতে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা খরচ হলেও জাল কাগজপত্রের বিপরীতে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে এসব স্মার্টকার্ড (বহির্গমন ছাড়পত্র) নেওয়া হয়। এর সঙ্গে বিএমইটির অসাধু কেউ জড়িত থাকতে পারে। তাদের চিহ্নিত করতে গ্রেফতার চারজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *