মৎস্য অফিস ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মধ্যেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মুন্সীগঞ্জের পদ্মা ও মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে চলছে মা ইলিশ ধরার উৎসব। একাধিক অভিযানে এ পর্যন্ত অর্ধশতাধিক জেলেকে আটকের পর বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিলেও মা ইলিশ ধরা থামানো যাচ্ছে না।

গতকাল মঙ্গলবারও পদ্মার ছিডারচর ও বাবুরচরে প্রকাশ্যেই জেলেদের সংঘবদ্ধ একটি দলকে মা ইলিশ ধরতে দেখা গেছে। এ সময় সাংবাদিকদের ছবি তুলতে দেখে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে তেড়ে আসে দলটি। পদ্মার তীরেই হাট বসিয়ে চলছে এসব মাছ কেনাবেচা।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পদ্মা নদীতে ঘুরে দেখা গেছে, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও শরীয়তপুরের জাজিরা সীমান্তবর্তী ছিডারচর ও বাবুরচরে কাপড় ও পলিথিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী মাছের হাট। তীরে ভেড়ানো রয়েছে আট থেকে নয়টি ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার ট্রলার। ভাসমান এ হাট থেকে মা ইলিশ কিনে নিয়ে যাচ্ছে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা।

মাইজগাঁও গ্রামের মিজানুর রহমান জানান, এলাকার বখাটে যুবকদের একাধিক দল নদীর তীরেই জেলেদের কাছ থেকে এসব মাছ কিনে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে। বেশি লাভের আশায় সংঘবদ্ধ দলগুলো প্রতিদিনই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ও পথের ধারে প্রকাশ্যেই মা ইলিশ বিক্রি করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মার তীরের এই এলাকার মতো মুন্সিগঞ্জ সদর, টঙ্গিবাড়ী ও লৌহজং উপজেলা ঘেঁষা পদ্মা ও মেঘনা নদী থেকে মা-ইলিশ ধরার পর জেলেরা সেগুলো বিক্রি করছে নদীর তীরের গ্রামগুলোর হাটে। দিনের বেলায় প্রশাসনের অভিযান ও তৎপরতা থাকলেও রাতের বেলায় নদী হয়ে ওঠে অরক্ষিত।

আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে মা ইলিশ ধরার উৎসবে মেতে উঠেছে জেলেরা। জেলা সদরের আধারা ইউপির চর আব্দুল্লাহ, কালীরচর ও বকচর গ্রাম-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরা কিছুতেই থামছে না। মেঘনা তীরের অঘোষিত বিভিন্ন অস্থায়ী হাটে প্রতিদিনই ভিড় করছে পাইকার ও খুচরা মাছ বিক্রেতারা। এ অঞ্চলে ইলিশ ধরার সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রায় ২০০ জেলে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মা নদীতে মা ইলিশ ধরার দায়ে গত ১০ অক্টোবর ২০ জেলেকে ২০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ১০০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়। গত সোমবারও মুন্সিগঞ্জ শহরের লঞ্চঘাট সংলগ্ন ধলেশ্বরী নদীতে অভিযান চালিয়ে ২৫০ কেজি মা ইলিশসহ ছয় জেলেকে আটক করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ রকম একাধিক অভিযানে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মা ইলিশ ধরার অপরাধে অর্ধশতাধিকের বেশি জেলে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে জেলে রয়েছে। এর পরও থামানো যাচ্ছে না মা ইলিশ নিধন।

সদর থানার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাসিরউদ্দিন জানান, মা ইলিশ ধরার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *