সিরাজদিখানে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে বংশ পরমপরায় চলছে দেশীয় অস্ত্র টেটা, বল্লম, দা দিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষ। বছরে দুইএকবার বা দুই বছরে একবার এ সংঘর্ষ হয়। এতে প্রাণহানীসহ ঘটে আহত গুরুতর আহতের ঘটনা।

গত আগষ্টের ৮ তারিখ নুরু বাউল গ্রুপ ও নাছির মোল্লা গ্রুপের টেটাযুদ্ধে দুই পক্ষের কমপক্ষে ৯ জন আহত হয়। গুরুতর আহত তকবির মোল্লা (৩০) নামে এক ব্যাক্তি ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ আগস্ট মারা যান। এ ঘটনায় ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আওলাদ হোসেন নামে একজন। ৩৯ জন আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে জেল হাজতে যান। গত মঙ্গলবার ২৭ জন জামিনে আসেন। আবার উত্তপ্ত হয় বালুচর। গত শুক্রবার আবার সকাল ৭ টা থেকে বেলা সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত সাড়ে ৪ ঘন্টা চলে টেটাযুদ্ধ।

এতে দুই পক্ষের ১১ জন টেটা বিদ্ধ ও আরো আহত হয় ১৩ জন। ঢাকা মেডিকেলে গুরুতর আহত নাছির মোল্লা গ্রুপের ৩ জন জামাল মোল্লা, মজিবর রহমান, আক্তার মুন্সী ভর্তি রয়েছেন, বাকিরা চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। এসব ঘটনায় দুই পক্ষের একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া শুক্রবার সন্ধ্য ৬ টার দিকে বালুচর বাজারে নুরু বাউল গ্রুপের ২৫/৩০ জনের একটি দল তোফাজ্জল নামের এক ব্যাক্তিকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। সে ঢাকা মেডিকেলে চিকৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন।

শুক্রবার সকালে সাড়ে ৮ টার দিকে সিরাজদিখান থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। মোল্লাকান্দি, বালুচর, নতুন ভাষাণচর, পুরান ভাষানচর ও দোসরপাড়া গ্রামে দুই পক্ষের কয়েক হাজার লোক দফায় দফায় সংঘর্ঘে জড়িয়ে পরে। ৩৫-৪০ জন পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে নিজেরাই বেকায়দায় ঝুকিতে পরে যায়। মোল্লাকান্দি ঈদগাহ মাঠ, মসজিদ ও মাজার এলাকায় নাছির গ্রুপকে থামিয়ে পুলিশ বাউল গ্রুপকে থামানোর জন্য এগিয়ে যায়।

baluchormojibor1বাউল গ্রুপ টেটা ও ইট নিক্ষেপ করে নাছির গ্রুপের দিকে পুলিশ মাঝামাঝি যাওয়ার পর নাছির গ্রুপও পাল্টা জবাবে টেটা ও ইট নিক্ষেপ করে। ওসি ফরিদ উদ্দিনসহ পুলিশের ২০-২২ জনের একটি দল বেকায়দায় পরে যায়। এরপর পুলিশ দুই দিকে ভাগ হয়ে লাঠিচার্জ শুরু করলে দ্দুল দুইদিকে চলে যায়। পরে শ্রীনগর ও টঙ্গিবাড়ি থানা থেকে আরো পুলিশ এনে, ৩ থানার পুলিশ মোল্লাকান্দি ও ভাষানচরসহ পুরো এলাকায় ২ ঘন্টা অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর দুই দিন ধরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং রাতে পুলিশ মহড়া দিচ্ছে। তবে এখনো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে বাউল গ্রুপ ঢাকা কেরাণীগঞ্জের জাজিরা ও নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থানার বক্তাবলী এলাকা থেকে লোকবল এনে শক্তি বাড়ানোর প্রস্ততি নিচ্ছে। পুলিশ টহলের কারণে চসিমউদ্দিন চরসহ ইটের ভাটা এলাকায় জর হচ্ছে। গতকাল শনিবার সকালে দোসরপারা ভাষানচর ব্রীজের নীচে ও মোল্লাকান্দি কসাই আমিরের বাড়ি এবং চসিমউদ্দিন চরে আমির হোসেনের বাড়িতে বাউল গ্রুপের লোকজন প্রস্তুতি নিচ্ছে। এলাকার সাধারণ লোকজন জানান, এটা একটা বর্বরতা এ যুকে এসব ঠিক না।

কে তাদের এগুলো বুঝাবে তাদের সামনে কিছু বলার সাহস কারোর নেই। বালুচর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক তিনিও আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেননি। গত ১০/১৫ বছর আগে গামছায় চাল নিয়ে এসে নুরু বাউল সংসার চালত আজ একাধীক ইটের ভাটার মালিক কোটি কোটি টাকার মালিক সে। বাজার, ইটের ভাটা ও বাড়ি ঘরে চাঁদাবাজি করে এ গ্রুপ। তবে অনেক ভাল পরিবার রয়েছে তারা এগুলো পছন্দ করে না। কিন্তু ইটের ভাটা, হাট বাজারে দোকাট পাট, মার্কেটের মালিক অনেকে বাধ্য হয়ে একটা পক্ষ নিতে হয়। তা না হলে দুই পক্ষই তাদের সমস্যা করবে।

balurchormollaপুলিশ সুত্রে জানা যায়, উভয় পক্ষে হাই লেভেলের লোকজন রয়েছে। আমরা আছি নানা সমস্যায় এত বড় একটা উপজেলা, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ২৪ ঘন্টা ডিউটি করতে হচ্ছে। সামনে নির্বাচন, তাছাড়া মাদক, সন্ত্রাসসহ নানা কাজ। এর মধ্যে এ সময় বালুচরের এ বিষয়টা আরো সমস্যা দার করেছে। এত বড় বড় নেতারা রয়েছে কেউ এ বিষয়ে সরাসরি কোন কিছু বলে না।

বালুচর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ¦ আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, এটা দীর্ঘদিনের সমস্যা, আমি বহুবার মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভায় বলেছি, এসপি স্যার, এএসপি স্যাার, উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেব ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মরতার সাথে বিষয়টি নিয়ে এর আগে ঝামেলার সময় জানিয়েছি। ২ মাস আগে একটি মাডার হয়। এরপর নুরু বাউল নাছির মেম্বার এদের সাথে বসেছি। এরপরও আবার সংঘর্ষ। নুরু বাউল একটা খারাপ লোক ওর ইতিহাস কে না জানে। ইটের ভাটায় সে একা মাটি দিবে জোর করে, রেট বেশি নিবে, মাটির সাথে বালু মিশিয়ে দিবে, বালু দিযে কি ইট হয়।

ফুটে ৭/৮ টাকা বেশি নিবে, এগুলো না মানলেই অত্যাচার। হাট বাজারে চাঁদাবাজি করবে। নানা অপকর্মে সে জড়িত। জেল থেকে এসে আবার ঝামেলা করছে, কাউকে সে মানছে না, বেপরোয়া হয়ে গেছে। পাশের ইউনিয়ন লতব্দির কিছু নেতা আছে তারা লাগায় রাখে, তাদের এখানে স্বার্থ আছে, বেশ টাকা পয়সাও লেনদেন হয়।

সিনিয়র এএসপি (সিরাজদিখান সার্কেল) আসদুজ্জামান জানান, পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *