সিরাজদিখানে স্ত্রীর পরকীয়ায় বাঁধা ও পরকীয়া প্রেমিককে ছুরির আঘাত করে আহত করার ঘটনায় স্বামী হাজতে।

গত রোববার রাত অনুমান ১১ টার দিকে উপজেলার বালুরচর ইউনিয়নের খাসমহল বালুরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরকীয়া প্রেমিক আহত আমির হোসেনের (৪০) স্ত্রী আছমা বেগম বাদী হয়ে সিরাজদিখান থানায় মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় স্ত্রীর পরকীয়ায় বাঁধা প্রদানকারী স্বামী আক্তার হোসেন (৪২) বর্তমানে জেল হাজতে আটক রয়েছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সিরাজদিখান উপজেলার খাসমহল বালুরচর গ্রামের আরব আলীর পুত্র আক্তার হোসেনের বিবাহীত স্ত্রী সুফিয়া বেগম সুফি (৩৪) ও মোল্লাকান্দি গ্রামের ধলু মিয়ার পুত্র আমির হোসেন কসাইয়ের পরকীয়া সম্পর্ক দীর্ঘদিনের চলছিল।

গত ১৪ অক্টোবর রোববার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে আক্তার হোসেনের বসতঘরে তার স্ত্রীর সাথে আমির হোসেনকে দরজা আটিকিয়ে ঘরে ছিল। বিষয়টি সুফিয়া বেগম সুফির ছেলে হাবিব (১৭) দেখে বাবা আক্তার হোসেনকে ফোনে জানায়।

আক্তার হোসেন বাড়ীতে এসে তার স্ত্রী সুফিয়া (সুফি) ও আমির হোসেনকে বসত ঘরের ভিতর আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে আটক করে সিরাজদিখান থানায় খবর দেয়। আমির হোসেন তার বসত ঘর থেকে বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায় ঘরে থাকা চাকুর উপর পরে আঘাতে আমির হোসেন গুরুতর আহত হয়।

ঘটনাটি তাৎক্ষনিক এলাকায় জানাজানি হলে আমির হোসেনের ভাই আলতাফ হোসেন আলতুসহ তার পরিবারের লোকজন তাকে ছিনিয়ে নিয়ে ঢাকা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সাথে চলে যায় আক্তারের স্ত্রী সুফিয়া।

সিরাজদিখান থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও উপ-পুলিশ পরিদর্শক সারোয়ার হোসেন ভুইয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্তার হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

আরো জানা যায়, ১৪ তারিখ রাতেই আক্তার হোসেনকে আটক করে ২দিন সিরাজদিখান থানায় রাখার পর আমির হোসেনের স্ত্রী আছমা বেগমের অভিযোগের পর ১৬ অক্টোবর গত মঙ্গলবার মামলা রুজু করে তাকে কোর্টে প্রেরণ করে হয়।

সুফিয়া বেগম সুফি জানান, আমার সাথে কোন পরকীয়ার সর্¤úক নেই। সে আমার ভাই, বালুচরে মারামারির ঘটনার পর থেকে আমাদের বাড়ি রাতে এসে থাকে। সে আমার স্বামীর বন্ধু। ঐদিন ঘটনার সময় আমার ঘরে আমির ভাই কথা বলতে ছিল, আমার স্বামীসহ কয়েকজন ঘরে প্রবেশ করে তাকে মারধর করে। কে চাকু দিয়ে আঘাত করেছে সেটা জানা নাই।

বালুরচর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আলেক মুন্সী জানান, আমির হোসেন কসাই’র বিরুদ্ধে অসংখ্য মেয়েলী অভিযোগ আছে। খাসমহল বালুরচরের আরেকটি পরিবারকে ধ্বংস করেছে আমির হোসেন কসাই। বর্তমান ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল হোসেন ভুট্টুর ভাইয়ের স্ত্রী ও তার তিন সন্তানসহ ভাগিয়ে নিয়ে গেছে আমির হোসেন কসাই। শুধু তাই নয় এ এলাকায় যত অপকর্ম আছে সমস্ত কিছুর নেতৃত্ব দেয় আমির হোসেন কসাই। বাজারের সভাপতি হওয়ায় প্রতিমাসে আড়াইল লক্ষ্য টাকা খাজনা ও চাঁদা তুলে আতœসাত করেছে এ আমির হোসেন কসাই। আমরা এলাকার লোকজন এই আমির হোসেন কসাই’র উপযুক্ত বিচার দাবী করছি এবং নিরিহ আক্তার হোসেনের মুক্তির দাবী জানাচ্ছি।

সিরাজদিখান থানার অফিসার ইন-চার্জ মোঃ ফরিদ উদ্দিন জানান, ঘটনা ঘটার সাথে সাথে থানা থেকে ফোর্স পাঠানো হয়। ঘটনার পর ১৪ তারিখ রাতে জিজ্ঞাসা বাদের জন্য আক্তারকে থানায় নিয়ে আসা হয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

১৬ অক্টোবর বাদী আসমা মামলা করলে আক্তারকে আটক করে আদালতে পাঠানো হয়। আহত আমির হোসেনের অবস্থা এখন উন্নতির দিকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *